সম্পাদকীয়

আস্তাকুঁড়ে ফেলে রেখে গেলে কী হয় বলা শক্ত, কিন্তু আশাদিদিদের খপ্পরে পড়লে, জম্মের শোধ একখানা কাগজ পাওয়াই যায়। সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র। এরপর যদি রোজ দুবেলা খিদেও পায়, রেশন কার্ড। রোগ বাধালে অমুক কার্ড। ইস্কুলে যেতে চাইলে কার্ড, অতিষ্ঠ হয়ে যেতে না চাইলে আর এক দফা ছাড়পত্র। মাথার ওপর তেরপল টাঙাতে চাইলে, দাওয়ায় বেড়া দিতে চাইলে, সাতসকালে নদী বা রেললাইনের ধারে যেতে না চাইলে, জলের কল চাইলে, বাতি চাইলে, সরকার মশাইয়ের কাছে কাজ চাইলে খরচটা অবশ্য মোটা রকম। কেননা এগুলো হচ্ছে পরিষেবা। মাগনা তো হয় না। গোটা চারেক কাগজে সন্তুষ্ট না থেকে আরও খান চারেক কাগজের বিনিময়ে, এটুকু পরিষেবা সরকার মশাইকে দেওয়া সুনাগরিক মাত্রেরই কর্তব্য। সেই তাঁকেই আবার গদিচ্যুত করবার ইচ্ছাও মনে লালন করা কি ঠিক? ভোট দিয়ে সরকার বেছে নেওয়া কি ভালো?
          এই যে নতুন কল করেছেন সরকার মশাই, যাতে আমাদের বাতিল করে, টাটকা নতুন মানুষ বেছে নেওয়া যায়, এটাই বরং স্বস্তির কথা। আশার কথা। এই পথেই আমাদের ক্রমমুক্তি হবে। সমস্যা খালি একটাই। আবলুসের মতো কালো সিড়িঙ্গে জটাধারী, কে যেন একটা ঘুমের ভেতর ঘাই মেরে উঠে বলছে, ‘মা এত জল দিয়ে ঘিরে রেখেছে তোকে, তাও তোর আগুনের ভয়?’

পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত মানুষ। সন, ১৯৪৭-৪৮।