মন্তব্য

ড্রাইভার। অলকা সাহা


শিল্পী: মালঞ্চ সেন

পইপই করে বলেছি, মুখ বন্ধ রাখবে। যেখানে সেখানে হাঁউমাউ করে যা ইচ্ছে তাই বকে যাওয়া, এ কী?

কথা শোনা তো ধাতে নেই। জম্মের পর মুখে মধুও জোটেনি।

মাকে দেখতে হাসপাতালে যাব, সাত সকালে হাতমুখ ধুয়েই গাড়ি বুক করেছি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন গাড়ি, বাজেটের মধ্যে, উঠে বসতেই ড্রাইভার গান চালিয়ে দিল। সাউন্ডটা কী সুন্দর! ওই যে দুটো ছেলে যত্ন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যারেঞ্জ করে, সেই গান। কী ভাল না?

আড়চোখে দেখলাম, মুখে সিগারেট ঝুলিয়ে পকেটে দেশলাই হাতড়াচ্ছে। ‘দাঁত মাজার পর পাঁচ মিনিটও কাটল না যে।’ জবাব দিল না। এত্ত অসভ্য!

গাড়ি বড় রাস্তায় উঠেছে কি ওঠেনি, শুরু হল বক্তব্য পেশ করা। ‘দেখো, দুটো গানের দুটোতেই লয়ের কোনও কারবার নেই। রবীন্দ্রনাথ কি লয়টয়ের বিশেষ তোয়াক্কা রাখতেন না?’ খোঁচাটা দেখুন। টেনে হিঁচড়ে হেসে বললাম, ওরা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছে করুক না। একটু কিছু বদল হবে না?

বলাটাই কাল হল। শুরু হল ধারাবিবরণী। ‘বদল? লয়ে হস্তক্ষেপ করলি, র‍্যাঁদা মেরে একটা আস্ত গাছকে দাঁতখড়কে বানিয়ে দিলি, কথা সুরটাই বা বাদ যায় কেন? করে ফেল, দেখে যাই! নইলে মুরোদ থাকলে গান লিখে সুর দিয়ে চোঙা ফুঁকে বেড়া। দেখি কটা লোকে শোনে!’ হুসহুস করে ধোঁয়া ছাড়ছে আর বকে চলেছে। আচ্ছা গাড়িতে আরও একটা লোক নেই কি? তার হয়তো ভাল লাগে এই গান, কথাগুলো তার মুখের ওপর না বললেই নয়?

কখন বাগবাজার চলে এসছে খেয়াল করিনি। গাড়ি থেমে গেল। ড্রাইভার বলল দিদি গাড়ি আর টানতে পারছে না। আপনারা এখানে অন্য গাড়ি পেয়ে যাবেন। আমার এই পর্যন্ত ভাড়া দিলেই হবে। আমি বোকার মতো টাকা দিয়ে নেমে এলাম।

মাল দেখি আগেই নেমে পড়ে, আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে, আর পকেট হাতড়াচ্ছে। ব্যাগট্যাগ সামলে যেই বলেছি, হল তো, শান্তি হয়েছে তো এইবার? শয়তানটা বলে কী, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিলেন!’