লোক সেবা শিবির প্রকাশিত কিছু কবিতার বই
১. কথা আর নীরবতার সীমান্তে : লাতিন আমেরিকার প্রথাবিরোধী কবিতা
নির্বাচন, ভাষান্তর, ভূমিকা ও অনুষঙ্গ : অংকুর সাহা
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের থেকে আসা মানুষের জাতি, সাহিত্য আর সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র লাতিন আমেরিকা। পঞ্চদশ শতক থেকে ইয়োরোপের আইবেরিয়ান উপদ্বীপ (মূলত স্পেন, পর্তুগাল) থেকে দলে দলে দস্যুরা আসতে থাকে। ভূমিজ ইন্ডিয়ান যাঁরা এখানে বাস করেছেন হাজার হাজার বছর এবং গড়ে তুলেছেন মাইয়া, ইনকা, আসতেক প্রভৃতি সভ্যতার ভিত্তিভূমি – গণহত্যা ও আরও নানান উপায়ে তাঁদের মেরে ফেলা হয়েছে – কেবল বলিভিয়া, পেরু ও গুয়াতেমালায় তাঁরা দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। অন্য দেশগুলিতে তাঁদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ‘মেস্তিসো’ মূলত শ্বেতকায় পুরুষ ও ভূমিজ নারীর বর্ণসংকর প্রজাতি। এল সালভাদোর, পারাগুয়াই ও ওন্দুরাসে তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্য কয়েকটি দেশে প্রধান সংখ্যালঘু। ‘মুলাটো’ ইয়োরোপ থেকে আসা
শ্বেতকায় ও আফ্রিকা থেকে বলপূর্বক ধরে আনা কৃষ্ণকায় মানুষের মিশ্রণ, দোমিনিকান রিপাবলিকে এঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্য দেশে সংখ্যায় খুবই কম। বাকি মানুষের মধ্যে রয়েছে ‘সাম্বোস’ অর্থাৎ কৃষ্ণকায় ও ভূমিজ মানুষের মিশ্রণ আর খুব সামান্য কিছু কৃষ্ণকায়
এবং এশিয়ার মানুষ। এই সব মানুষেরই অবদান রয়েছে লাতিন আমেরিকার সাহিত্যে।
প্রায় চার দশক ধরে কবি অংকুর সাহা লাতিন আমেরিকার কবি ও কবিতায় নিমগ্ন। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করার সূত্রে এসপানিওল ভাষার সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ। এই প্রথম তাদের একটি নির্বাচিত সংকলন প্রকাশিত হতে চলেছে গ্রন্থাকারে। এই সংকলনে তিনি নির্বাচন করেছেন বারোটি অনুবাদ-প্রবন্ধ, লাতিন আমেরিকার আটটি দেশ থেকে। আর্হেন্তিনা, চিলে, মেহিকো ও গুয়াতেমালার কবিদের দুটি করে এবং উরুগুয়াই, বেনেসুয়েলা, নিকারাগুয়া ও এল সালভাদোরের কবিদের একটি করে।

২. শ্রীকেউ-না-র সাত কাহন : বের্টোল্ট ব্রেখ্ট
অনুবাদ/অনুসরণ : কৌস্তুভ বন্দ্যোপাধ্যায়
সত্যজিৎ রায়, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য আর প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্য, কাছাকাছি সময়ে শুনিয়েছিলেন মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্প। আকস্মিক নয়। ওঁদের মোল্লা, আমাদের গোপাল ভাঁড়। জুল ভার্নের ক্যাপ্টেন নিমো বা নানাসাহেব ধুন্দুপন্থ। বের্টোল্ট ব্রেখ্ট-এর শ্রীকেউ-না। শ্রীকেউ-না-র গল্পগুলো, এই বইতে তোড়ায় বাঁধা হল। সঙ্গে ব্রেখ্ট-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ, মার্কিন সংসদে পেশ করা তাঁর জবানবন্দি, বিবৃতি আর সমকালের ঘটনাবলির (1898 – 1956) সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

৩. শব্দসুখ : আশিস হাজরা
কবির কথায় যে-কোনও মানুষ তার নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। কেউ গান গেয়ে, ছবি এঁকে, আবৃত্তি করে, গান লিখে, নাটক রচনা করে বা অন্তত কথা বলে। আমিও নিজের ভাব প্রকাশ করার কথা ভেবেছি, সেই ছোটবেলা থেকেই: আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলাটা ছিল বাল্যকালের একটা নেশার মতো। কবিতা বলার শখ, আমার প্রাণের খুব কাছের। সেই কবিতাকে অনুসরণ করতে করতে, একদিন হঠাৎ তার মুখোমুখি দাঁড়ানো! অনুভব করা, কবিতাই আমার অবলম্বন। তাকে লালন করতে শুরু করা সেই থেকে। কবিতার মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করতে পারার মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পেতে শুরু করলাম। দুজনায় দুজনার হাত ধরাধরি করে আজ হলাম আপনাদের মুখোমুখি। আমাদের নমস্কার গ্রহণ করবেন। আর ভালো লাগলে, সুযোগ দেবেন এবং আশীর্বাদ করবেন আরো দীর্ঘসময় ধরে যেন আমরা আরো অনেকটা পথ একসাথে হাঁটতে পারি : প্রাণ থেকে প্রাণে, একটি হৃদয় হতে আরেকটিতে।

৪. নীল ঊর্ণীর ঢেউয়ে : পার্থপ্রতিম চৌধুরী

৫. রাকা : আলপনা বিশ্বাস বসু
মানুষের অনুধ্যান, অনুভব আর আবেগের শেষ কথা হল কবিতা। বার্ধক্যের বহুমাত্রিক অনুভবের না-চাপা শাব্দিক অবয়ব কবি আলপনা বিশ্বাস বসুর দ্বিতীয় কাব্য-গ্রন্থ ‘রাকা’। শেষ রাতের অমাবস্যা-ক্লিষ্ট আকাশে এক খণ্ডিত চন্দ্রমা। চলমান সমাজে নিত্য যাপনে আদর্শ আর সৌন্দর্যের যুগল মিলন।
কবি তো চিরকাল আলোঘরবাসী। আলো দেখতে চায়। দেখাবেও ভাবী কালকে। তাই কবিতা সত্য। সেই সত্য সন্ধানে
বিদ্যালয়-কাল থেকেই কবি আলপনা বিশ্বাস বসুর লেখালেখি শুরু কৃষ্ণনগরের সাহিত্যচর্চার পরিমণ্ডলে।
৪৫টি কবিতার সম্ভার ‘রাকা’ কিছু বলতে চায়, যা হয়তো পাঠকের শোনা। কিছু দেখতে বলে, যা হয়তো পাঠকের দেখা।

লোক সেবা শিবিরের বই সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করুন:
ফোন/হোয়াটসঅ্যাপ : +91-94331-28555