
ফটো: Rhododendrites
কয়েক পঙ্ক্তি সুরা
সুব্রত সরকার
এই মর-পৃথিবীর মৃত্তিকায় তোমাদের পদচিহ্ন
দেখে খুব মায়া হয়েছিল, দয়ার
পতাকা উড়ছে গগনতলে, তাকে দীর্ঘশ্বাস দিই, মৃত্যু
যখন নির্বাক প্রজাপতির মতো কপালে
এসে বসল তাকে বলাই হয়নি একটু অপেক্ষা তো করতেই
পারতে, চন্দ্রাহত মেঘ অপার কুয়াশা
কুড়ায়, মদের ভিতর তৃষ্ণা লুকিয়ে থাকে, স্মৃতি
তুমি যতই চেষ্টা করো না কিছুতেই আর মিথ্যা
বলতে পারব না, অরব তীর্থজল
এবার তবে একটা চুমু দিয়ে ফিরে যাও অনন্তে
নদী, বালি, পর্বত, জ্যোৎস্নায়, শুধু
একাকী মানুষের রেখে যাওয়া অপার সৌন্দর্যে।
শরীরে শরীর ডুবিয়ে দিলে তো সেই শরীরকেই খুঁজে পাবে
মন সেখানে কোথায়? পিরিতির নাম
বনশ্যামপুর, টাকা দেখলে
মৃৎপাত্রে রাখা ট্যারা দেবীও হেসে ওঠেন, ভৈরব ও শিষ্য একত্রে
শব ভক্ষণ করে, তামার বুলেট, পায়খানার
সিস্টর্নের ভেতর নুন, সোনার অলংকার নিঃশব্দে পা ডুবিয়ে
আছে, অনাহার, কীসের সমাধি?
আমাকে বলেনি কেউ চুরি করো গঙ্গাজল, মিথ্যা, লোহিত
পার্বণ, উদ্ভিদের শঙ্খ বাজে, ভোরের
হাঁড়ির ভিতরে গান, মাখন, চুল, দয়ার মতো দেখতে একজোড়া
সাদা শাঁখা ও কামগন্ধহীন, কয়েক পঙ্ক্তি সুরা, শুধু
মুণ্ডটি লুট হয়ে গেছে।
কণিষ্ককে, দেবেশ রায়ের কথা
সৌম্য দাশগুপ্ত
আটাত্তর সাল
প্রণাম নেননি
মন্দ্রস্বরে শুধু
লেখাটি চাইলেন
পরিচয়ের কথা
লেখকসূত্রে
বাবার কথা, যেন
আত্মীয়তা ছিল
কাদের লেখা পড়ি
প্রশ্ন করলেন
শঙ্খ ঘোষ শুনে
অগাধ প্রশ্রয়
কী নিয়ে ভাবো তুমি,
খেলা না পলিটিক্স?
মিশনে কী শেখায়?
পুজো, না উপচার?
রথের সারথিকে
সহসা চিনলেন
নিজাম, এসো বুকে,
শিখেছি চালনাও
এরই কাছে, জানো,
বিধুর ভারতের
ক্লিন্ন, পরাভূত
একেই গুরু মানি
পরিচয়ের পর
দেবেশ, মানিকের
সুধীর কথকতা
এভাবে তুলে ধরে
এমন স্মৃতিগুলি
উজিয়ে দিলে আজ
সাহিত্যের কথা
নাই বা বললাম!
ভালোবাসা এটুকু তো পারে!
সন্দীপন চক্রবর্তী
সমস্ত পাগল আজ পৃথিবীর পথে পথে
নেমে গেছে ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে
তারাই নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় পৃথিবীর
আরোগ্য চায় না
হ্রদ ও নক্ষত্রে ঘেরা জলের ভিতর
খলবল করে ওঠে অন্ধকার গোপন শিকড়
এর মাঝে ভালোবাসা অতি দীন ভিখারির মতো
এনামেল বাটি হাতে বসে থাকে রাস্তার ধারে
আমি কি বসব গিয়ে পাশে?
কাঁধে হাত রাখব খানিক?
বলব কি – হে ভ্রমর, শেখাও মৌলিক জাদু
আমাদের ক্ষতমুখে বুলাও পালক
ভালোবাসা সারেঙ্গিবাদক
তোমাকে সুরের কাছে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়
নির্জন শীতের দুপুরে
আর তুমি টের পাও, ততটা বিষাক্ত নয় এ জীবন
শিরশিরে বাতাস দিলে, টের পাও রক্তের ভিতরে
কমলালেবুর মতো কিছুটা সুগন্ধ রয়ে গেছে
এটুকুই, ভালোবাসা এটুকু তো পারে!
রং বদল
বিশ্বজিৎ পণ্ডা
কফি হাউসের সামনে দাঁড়িয়েছিলে।
মনে আছে?
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ রং বদল।
কত কেলেঙ্কারি, কত ঝড়ঝাপটা
সেই সময়, যখন দেয়ালে দেয়ালে,
‘গলানো সোনা আঠাশ টাকা।’
অথবা যখন, দেয়ালে দেয়ালে,
‘দিল্লি থেকে এল গাই
সঙ্গে বাছুর, সিপিআই।’
যখন দেয়ালে দেয়ালে
‘জাগো, বাঙালি জাগো।’
ওই কাঁচা ঘুমের ভেতর আবার রং বদল।
মনে আছে?