কবিতা

রাত । একরাম আলি

পুরনো জানালাগুলি ভাঙা ভালোবাসার মতন
তবু তাতে দেখি ভোর, আকাশের দিকপরিবর্তন

যখন বিদ্যুৎ যায়, আঁধার যখন
প্রকৃতির মতো লম্ফে কেঁপে ওঠে মন

আলো যত, ধোঁয়া বেশি; সমস্বরে কাশে
কুয়াশা সাঁতরে শিখা থেমে-থেমে আসে

রাতের দারিদ্রে একা লম্ফটি জ্বলে
ছোট্ট শিখা, একাকিত্বে নিভু-নিভু ঘরের অতলে

Decorative motif

ভ্রমণ । ঝিলম ত্রিবেদী

চারিদিক
ধু ধু
তোমার চোখের মতো শুধু
ভাঙা আঙুলের মতো
ভেঙে যাওয়া সন্তানের মতো
চারিদিক
শুধু

নদীর জলের কাছে সংসার দাঁড়ালে হঠাৎ
প্রবাহ ওঠে না কোনও
স্থির এক শান্ত আঘাত
দুটি মুখ
জল দিয়ে এঁকে রাখা স্তনভার
রোদে
পুড়ে যায় সংসার!

চাঁদ লেগে থাকা দোকানিরা
বহতা কড়াই
শিশিরের বন থেকে ফিরে আসে লাজুক ছেলেটি
গান
গায়
চঞ্চল ক’রে তোলে হাত
মেয়েটি আকাশি রং, মেয়েটিও পুজো নিতে চায়

পাটনী
একলা
দেখে

বিড়ি খায়, ধোঁয়া ওড়ে একা

নিভন্ত
ছেলে মেয়ে
সংসার ছেড়ে এসে নৌকোয় সংসার করে

Decorative motif

যযাতি । বিশ্বজিৎ পণ্ডা

এবারও তোমার সঙ্গে দেখা হল না।
ঘূর্ণির ভেতরে
কোথায় তলিয়ে গেলাম! সেখানে তো তুমি নেই।
যদি থাকতে, আমি শুধু জানতে চাইতাম ‘কেন’?
কেন এই নিরঞ্জন? বিপরীতগামী কালচক্র?
সন্তান যদি এই তারুণ্য প্রত্যাখ্যান করে,
তখন কী হবে? ঘূর্ণির ভেতর পড়ে
কোথায় তলিয়ে গেলাম – সেখানে আমার
জরাবৃদ্ধ সন্তানসন্ততি মারামারি করছে। সেখানে তুমি নেই।
অতীত থেকে নির্গত যে আলোকরশ্মি ভবিষ্যৎকে
স্পর্শ করছে, সেখানেই ঘর বেঁধেছিলাম –
তার নাম কলিকাতা শহর – এখানে সবাই সবাইকে
চেনে – রেশন তুলতে যায়, মেট্রো রেলে
ছাতা ফেলে আসে, দালাল ধরে আর.জি. করে
গিয়ে মরে – এখানেও তুমি নেই।
এবারও, তোমার সঙ্গে দেখা হল না।