মন্তব্য

রতন
অলকা সাহা

এরা চলে যাবে। এই ব্যারেন রাস্কেলরা। দেশের যে কোনও প্রান্তে, পৃথিবীর যে কোনও শহরে, যার খপ্পরেই পড়ুক, যা খুশি হোক – এরা মানিয়ে নেবে, মেনেও নেবে। বলবে, মাথা ঠান্ডা রাখুন। ল্যাজে পা পড়লে দাঁত খিঁচিয়ে রামকৃষ্ণর দোহাই দেবে। বলবে, ঠাকুর ফোঁস করতে তো বারণ করেননি।
          যাবার সময় বলবে সেইসব কথা যা নিজেরা কোনওদিন উপলব্ধি করেনি, বলবে সেইসব শব্দ যাদের অর্থ এখনও এদের কাছে ধরা দেয়নি, নিজেরা জীবনে যা কোনওদিন বিশ্বাস করেনি। বলবে: ‘জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।’
          এই রাস্কেলরা, বাংলার কেউ নয়। কোনওদিনই ছিল না।
          যে বাংলার, সে রতন। রত্নবিশেষ। তার ‘ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোচে না, যুক্তিশাস্ত্রের বিধান বহুবিলম্বে মাথায় প্রবেশ করে, প্রবল প্রমাণকেও অবিশ্বাস করিয়া মিথ্যা আশাকে দুই বাহুপাশে বাঁধিয়া বুকের ভিতরে প্রাণপণে জড়াইয়া ধরা যায়, অবশেষে একদিন সমস্ত নাড়ি কাটিয়া হৃদয়ের রক্ত শুষিয়া সে পলায়ন করে, তখন চেতনা হয় এবং দ্বিতীয় ভ্রান্তিপাশে পড়িবার জন্য চিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠে।’
          যিনি বাংলার, তিনি দ্রবময়ী। তাঁর কথা হল: ‘তুই আমায় গুপিনাথপুরে নিয়ে চল্ ভাই, আমার আর কাশীবাসে কাজ নেই – বাবা বিশ্বনাথ মাথায় থাকুন। ও মাগির কাছে আর দুমাস থাকলে আমি পাগল হয়ে যাব।’
          মেদিনীপুরের ছেলে ইংরেজিতে কথা বললে এই রাস্কেলরা শিউরে ওঠে। এরা পত্রিকার ‘সম্পাদক’। সিনেমার ‘পরিচালক’। কেউ মরে গেলে তার বাড়ির বারান্দায় উঠে এরা রোদচশমা খুলে ফেলে, যাতে চিনে ফেলতে কারও অসুবিধে-টসুবিধে না হয়। নইলে বেঁচে লাভ? ‘ধর্মবাতিকগ্রস্তা’ নীরজাবাসিনীর লোমবস্ত্রের একটি লোমও এই রাস্কেলরা উৎপাটিত করতে পারেনি। পারবেও না। এদের লক্ষ্য করেই জীবনানন্দ লিখেছিলেন, ‘তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও – আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব’।
          বাঙাল কিনা, তদুপরি অহিন্দু। বরিশালের জীবনানন্দ দাশ বিপ্লব করবেন না, তো করবে কে? অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র?

দেখা হয়েছে: বার

5 1 vote
Article Rating
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x