সার্থক রায় চৌধুরী

ফটো: ইথান লং
১
পরিস্থিতি
যেন অপরাধ করে ফেলেছে লাজুক যৌনতা.. পথচলতি মানুষের সামনে
ঘুমন্ত ভিখিরির লিঙ্গ জেগে আছে।
কোনও ভিক্ষা নেই, এক আশ্চর্য মুক্তির স্বাদ বাকিদের ভাবিয়ে তুলেছে..
রাগ, ঘৃণা, বিরক্তি, হাসি, মস্করা, কোনও কিছু তাকে আনত, ন্যুব্জ আর করতে পারছে না…
পুলিশ জানে না লিঙ্গ দাঁড়ানো অপরাধ কিনা.. তারা কিছু বলতে চাইছে না…
২
বন ফায়ার
সামান্য শস্যের দেশে অসামান্য ক্ষুধা নিয়ে এসেছে টুরিস্ট, ফলে চিকেন চিকেন আরো ডানাওলা ডানাহীন মাছ মাংস মূর্ছনার ভিতর নেচে উঠছে ট্রাইব, এথনিক তারল্যের খোঁজে তোলপাড় হচ্ছে অরণ্যের সামান্য স্পন্দন..
কেঁপে উঠছে জিপের ইঞ্জিন, ডেকচির ঢাকনা, বক্স, ভাঙা ডিম আর পোড়া কিছু ভাতের ভিতরে উঁকি মারছে ভিতু কুকুরের দল
দুখি মানুষেরা এক হলে
কী কী হয়ে যেতে পারে, ম্যানেজার
এখনো জানে না !
৩
ইচ্ছাপত্র
একটা বাড়িতে থাকতে চাই যেখানে থেকে ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দ শোনা যাবে। ট্রেন দেখা যাবে, এক বা দুই ঝলক, গাছের ফাঁক দিয়ে
আর হ্যাঁ, একটা পুরোনো, ইটের ঘাটওলা পুকুর থাকবে দুদিকে রোয়াক দেওয়া, বেড়া বরাবর, গায়ে সবুজ ছ্যাতলা পড়া কয়েকটা সুপুরি গাছ, আর একটা ছায়া-পড়া বাগান।
ওপাশে একটা আমবাগান, তার ওদিকে পড়ে যাওয়া কাছারি বাড়ি – সেখানে তক্ষক ডাকবে, সরসর করে সরে যাবে গোসাপের দল আর রাতে শেয়ালের হঠাৎ পালানোর শব্দে হিম-পড়া পাড়া জেগে উঠবে – এ আশা রাখছি না, তবে সীমাদের বাড়ির মতো একটা বাড়ি যেন থাকে – ছাদে মেলা গোলাপি ফ্রকের ডানা
হাওয়ায় উড়ছে…
৪
রূপায়ণ
অরূপ – বেশ্যার ছেলেমেয়েদের পড়ায়। বেশ কিছু টিউশনও করে। ওর স্বপ্ন হল – একদিন বেশ্যালয় থাকবে না।
পিলু – দালাল, অরূপের বন্ধু। ওর স্বপ্ন, ও একদিন দুবাইয়ে দালালি করবে।
নিষাদ – ট্যাক্সি চালায়। ও চায় একদিন ওর নিজের গাড়ির ব্যবসা হবে।
ঋতম – কবি, ও নিরুর কাছে আসে। একটা উপন্যাস লিখতে চায়, যেটা নোবেল পাওয়ার যোগ্য।
রিমি – চাটের দোকান চালায়। ও একটা ক্লাউড কিচেন করার কথা ভাবছে।
পাধি – পুরোহিত। কার্তিক পুজো ওর পছন্দ নয়, ও এ পাড়ায় পাকাপাকি একটা মন্দিরের কথা বলে।
সেজবাবু – গৌতম, সবে পুলিশ জয়েন করেছে। সে চায়, একটা সত্যিকারের ইনভেস্টিগেশন হোক।
নিরু – বেশ্যা, ও একটা আউটবার্স্ট চাইছে..
৫
সম্পাদ্য
যাদের কেউ নেই, তাদের মতো দুজনের
মুখোমুখি দেখা হলে ভয়াবহ আক্রোশে?
নাকি, কোনও তীব্র আকর্ষণে একে অপরের দিকে ছুটে যায় তারা!
যেমন, একটি চুম্বকের উত্তর আর দক্ষিণ মেরু।
যাদের কোনোদিন দেখাই হবে না।
দেখা হয়েছে: ০ বার